ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো

ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেন ও রাশিয়া পাল্টাপাল্টি ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুই দেশের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক ভবন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বিপণিবিতান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউক্রেনের আরও নয়টি অঞ্চলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, খারকিভ অঞ্চলে সোমবার একটি বাড়িতে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার চালানো হামলায় ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কেন্দ্র, গুদাম, বন্দর এবং সামরিক সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনা।

রাশিয়ার হামলার পর প্রতিবেশী পোল্যান্ডও সামরিক বিমান মোতায়েন করে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। পরে পোল্যান্ড জানায়, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা শনাক্ত না হওয়ায় অভিযান শেষ করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও কৃষ্ণসাগরের ওপর ২৪৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এ হামলার মধ্যে মস্কোর প্রধান একটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির তিনটি শিল্প খাতের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার ফলে সৃষ্ট আগুনে শোধনাগারের দুটি প্রধান পাতন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিট মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে শিল্প খাতের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

২০২৪ সালে ওই শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হতো। সেখান থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।

রোববার মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার এই হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে ওই মৃত্যুর বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই জ্বালানি অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও গুদামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শীত সামনে রেখে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোয় রাশিয়া আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ। শীতকালে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। বৈঠকে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাবনা এবং ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলায় সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে দুই দেশের যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও অবকাঠামোর ওপরও বাড়ছে।

ট্যাগ : ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ড্রোন হামলা

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউক্রেন-রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেন ও রাশিয়া পাল্টাপাল্টি ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দুই দেশের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও সামরিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় জাপোরিঝঝিয়া শহরের আবাসিক ভবন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বিপণিবিতান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ইউক্রেনের আরও নয়টি অঞ্চলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, খারকিভ অঞ্চলে সোমবার একটি বাড়িতে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এ ঘটনায় তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়ার চালানো হামলায় ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কেন্দ্র, গুদাম, বন্দর এবং সামরিক সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনা।

রাশিয়ার হামলার পর প্রতিবেশী পোল্যান্ডও সামরিক বিমান মোতায়েন করে। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। পরে পোল্যান্ড জানায়, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা শনাক্ত না হওয়ায় অভিযান শেষ করা হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার ভূখণ্ডেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও কৃষ্ণসাগরের ওপর ২৪৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

এ হামলার মধ্যে মস্কোর প্রধান একটি তেল শোধনাগারও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটির তিনটি শিল্প খাতের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর শোধনাগারটিতে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ হয়ে গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার ফলে সৃষ্ট আগুনে শোধনাগারের দুটি প্রধান পাতন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ইউনিট মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে শিল্প খাতের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

২০২৪ সালে ওই শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হতো। সেখান থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়।

রোববার মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার এই হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে ওই মৃত্যুর বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই জ্বালানি অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর ও গুদামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে শীত সামনে রেখে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ অবকাঠামোয় রাশিয়া আরও বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কিয়েভ। শীতকালে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে দেশটির কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। বৈঠকে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাবনা এবং ইউক্রেনকে আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলায় সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এতে দুই দেশের যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ ও অবকাঠামোর ওপরও বাড়ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ