ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘হিট অ্যান্ড রান’ ঠেকাতে রাজধানীর প্রান্তে ড্রোন নজরদারি

‘হিট অ্যান্ড রান’ ঠেকাতে রাজধানীর প্রান্তে ড্রোন নজরদারি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেদের মালিকানাধীন গণপরিবহণে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, এর দায় সরকারের ওপর চাপানো এবং বিমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নাশকতাকারীরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াই তাদের কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রান্তিক ও প্রবেশমুখের এলাকাগুলো থেকে দ্রুত ঢাকার বাইরে কিংবা শহরের ভেতরের অলিগলিতে সরে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ককটেল নিক্ষেপের পর বাসে আগুন এবং পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে রেলপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হতে পারে। সম্প্রতি কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ এবং এর পরদিন হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থ জোগান ও ইন্ধনের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করে দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ পাঠাচ্ছেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

রেলওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। অন্যদিকে সাইমুন শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ঘনবসতি, প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ এবং দ্রুত আত্মগোপনের সুযোগ থাকায় নাশকতাকারীরা এসব এলাকাকে গুরুত্ব দিতে পারে। ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা গণপরিবহণে আগুন দিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এসব এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহণে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম সীমানার এলাকাগুলোতে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বলে এসব এলাকায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুর ও পল্লবীর মতো এলাকায় গণপরিবহণে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নাশকতা ঘটিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার বিষয়টিও পুলিশের নজরে রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআই এলাকা, রেলস্টেশন ও রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতার ঘটনায় অর্থের জোগান, নির্দেশনা এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ট্যাগ : ডিএমপি নাশকতা রাজধানীর নিরাপত্তা

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘হিট অ্যান্ড রান’ ঠেকাতে রাজধানীর প্রান্তে ড্রোন নজরদারি

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। নিজেদের মালিকানাধীন গণপরিবহণে আগুন দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি, এর দায় সরকারের ওপর চাপানো এবং বিমার অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নাশকতাকারীরা রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল ব্যবহার করতে পারে। অর্থাৎ, দ্রুত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াই তাদের কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানীর প্রান্তিক ও প্রবেশমুখের এলাকাগুলো থেকে দ্রুত ঢাকার বাইরে কিংবা শহরের ভেতরের অলিগলিতে সরে যাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চলের ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো ও খিলগাঁও এবং পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও মিরপুরের শেষ অংশে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ককটেল নিক্ষেপের পর বাসে আগুন এবং পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের নাশকতার উদ্দেশ্যে রেলপথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করা হতে পারে। সম্প্রতি কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ এবং এর পরদিন হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কেপিআই এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অর্থ জোগান ও ইন্ধনের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করে দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ পাঠাচ্ছেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। অর্থের জোগানদাতা ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, রেলস্টেশন ও রেলপথের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

রেলওয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। অন্যদিকে সাইমুন শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ঘনবসতি, প্রবেশ ও বের হওয়ার একাধিক পথ এবং দ্রুত আত্মগোপনের সুযোগ থাকায় নাশকতাকারীরা এসব এলাকাকে গুরুত্ব দিতে পারে। ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ কিংবা গণপরিবহণে আগুন দিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এসব এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহণে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম সীমানার এলাকাগুলোতে অপরাধীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বলে এসব এলাকায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মিরপুর ও পল্লবীর মতো এলাকায় গণপরিবহণে অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে নাশকতা ঘটিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার বিষয়টিও পুলিশের নজরে রয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআই এলাকা, রেলস্টেশন ও রেলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতার ঘটনায় অর্থের জোগান, নির্দেশনা এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ