মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা ‘অগ্রহণযোগ্য ও বিপজ্জনক’ বলে সতর্ক করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার জাহাজমালিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় আইআরজিসি জানায়, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় না করে নতুন কোনো নৌপথ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে ইরানের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন এই সতর্কবার্তা। যদিও গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে, তবুও জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেই জাহাজ চলাচল করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করাও বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত করিডরের বাইরে চলাচলকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে সব জাহাজকে তা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-তথ্য সংস্থা বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। সংস্থাটি ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহারের সুপারিশ করে এবং দাবি করে, ওই রুটটি মাইনমুক্ত।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে ৯৩টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচলের তুলনায় এ সংখ্যা এখনও কম।
আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের যে মাত্রা ছিল, সেটিই সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
গ্রাহকদের উদ্দেশে পাঠানো এক নোটে তিনি বলেন, যদি সংঘাত এমনভাবে শেষ হয় যে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে এই জলপথ দিয়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি