ঢাকা    রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মার্কিন-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের মরণকামড়

মার্কিন-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের মরণকামড়
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের যে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তিনি গড়ে তুলেছিলেন, নতুন এই সমঝোতা সেই অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু বছরের পর বছর নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সক্ষম। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা ছিল তার রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। একসময় কূটনৈতিক মহলে তাকে ‘আমেরিকার কানপড়া দাতা’ বলেও আখ্যায়িত করা হতো।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ওয়াশিংটনের নীতিকে প্রভাবিত করার পরিবর্তে ইসরায়েলকে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত কূটনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আঞ্চলিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চায়, অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী লেবানন প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা কিংবা সমঝোতার পথে এগোনো—উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তার জন্য।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রসের মতে, নেতানিয়াহু এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন যেখানে ওয়াশিংটনের চাপ এবং নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে, আবার সংঘাত দীর্ঘায়িত করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা আবিভ বুশিনস্কি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, এই সমঝোতার ফলে নেতানিয়াহু শুধু কৌশলগতভাবেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও দুর্বল অবস্থানে চলে গেছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্কেও নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অর্জনকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন বলছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অগ্রাধিকার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানো, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া ইসরায়েলকে আগের তুলনায় কম প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। অতীতে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রেই নেতানিয়াহুকে শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পথ অনুসরণ করছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে। যে কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তিনি দীর্ঘদিন নিজের নেতৃত্বের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সেই ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : বিশ্ব সংবাদ মধ্যপ্রাচ্য ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক

কথা

এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সবসময় 'ইনশাআল্লাহ' বলতাম। কিন্তু আজ, এই রাতে আমরা সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে …

আবদুল এল-সাইয়েদযুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সেনেটর

মাদরাসাগুলোতে জঘন্য অনাচারের যত ঘটনা শোনা যায়, তার অধিকাংশই ভুঁইফোঁড়, মানহীন প্রাইভেট মাদরাসা।

শায়খ আহমাদুল্লাহইসলামিক স্কলার

আজ সারা দেশে যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানো এবং তরুণদের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের জন্য আপনাদের (বাংলাদেশিদের) অভিন…

নেহা বোরাপ্রেসিডেন্ট, অল ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন

প্রিয় চাঁদাবাজ ভাইয়েরা, আমাদের জানটার নিরাপত্তা দেন। আমরা আপনাদের নিয়মিত ভিক্ষা দেব, তবুও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি মো…

হাসনাত আবদুল্লাহসংসদ সদস্য, কুমিল্লা-৪

মিরপুরের টিকাকেন্দ্র-হাসপাতালের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্নির্মাণ এবং ইসিবি চত্বরের স্টুডিও হামলার ক্ষতিপূরণ সরকারকে দিতে হবে। মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত আইন…

আসিফ মাহমুদমুখপাত্র, এনসিপি

নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙেছে। এটা অনাকাঙিক্ষত।

রাশেদ খানপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী

গা'জা যু'দ্ধে হাজার হাজার শিশুসহ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবিক সহায়তা ছিল অত্যন্ত সীমিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে…

খলিলুর রহমানসভাপতি, সাধারণ পরিষদ জাতিসংঘ

আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ থেকে বাদ দিতে হলে সংস্কার দরকার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহ'ত্যার বিচার-এই তিনটা দাবি মানলেই কক'টেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীমুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি
সব কথা

সংবাদ সংক্ষেপ

০১/০৩

নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত দাবি

দেশের নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে উদ্বেগ জানিয়েছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স (এনএসএ)। দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ৬৭ জন সাবেক ও বর্তমান নারী ক্রিকেটারের সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উঠে আসে।

এক নজরে পুরো খবর
০২/০৩

আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ছাড়াল

দুই দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। পাকা স্বর্ণের দাম বাড়ায় এই সমন্বয়; বুধবার দুপুর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

এক নজরে পুরো খবর
০৩/০৩

মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর মিরপুরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। মিরপুর ও পল্লবীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি চলছে।

এক নজরে পুরো খবর
সব সংক্ষেপ
রবিবার৮
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও আশপাশ
পরবর্তী নামাজ—
  • ফজর৪:৫১ ভোর
  • সূর্যোদয়৬:০৮ সকাল
  • যোহর১১:৪৪ সকাল
  • আসর৩:৪১ বিকাল
  • মাগরিব৫:১৮ বিকাল
  • এশা৬:৩৪ সন্ধ্যা

সাহরির শেষ ৪:৪৮ ভোরইফতার ৫:১৮ বিকাল

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


মার্কিন-ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের মরণকামড়

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের যে রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তিনি গড়ে তুলেছিলেন, নতুন এই সমঝোতা সেই অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, নেতানিয়াহু বছরের পর বছর নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থানকে ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সক্ষম। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা ছিল তার রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। একসময় কূটনৈতিক মহলে তাকে ‘আমেরিকার কানপড়া দাতা’ বলেও আখ্যায়িত করা হতো।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তা নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ওয়াশিংটনের নীতিকে প্রভাবিত করার পরিবর্তে ইসরায়েলকে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত কূটনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের চাপের মুখে রয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আঞ্চলিক সংঘাতের স্থায়ী সমাধান চায়, অন্যদিকে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী লেবানন প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা কিংবা সমঝোতার পথে এগোনো—উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তার জন্য।

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ডেনিস রসের মতে, নেতানিয়াহু এখন এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন যেখানে ওয়াশিংটনের চাপ এবং নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে, আবার সংঘাত দীর্ঘায়িত করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

নেতানিয়াহুর সাবেক উপদেষ্টা আবিভ বুশিনস্কি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। তার ভাষায়, এই সমঝোতার ফলে নেতানিয়াহু শুধু কৌশলগতভাবেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও দুর্বল অবস্থানে চলে গেছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্কেও নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অর্জনকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন বলছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অগ্রাধিকার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ এড়ানো, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া ইসরায়েলকে আগের তুলনায় কম প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। অতীতে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রেই নেতানিয়াহুকে শান্তি প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পথ অনুসরণ করছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরও বাড়তে পারে। যে কৌশলের ওপর ভিত্তি করে তিনি দীর্ঘদিন নিজের নেতৃত্বের বৈধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি সেই ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ