পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ১৭২টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬৪ হাজার ৬১৭ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
হজ বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৬০ হাজার ২৯৮ জন।
চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনাসহ অন্যান্য পবিত্র স্থানে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ফিরতি যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৯১টি, সৌদিয়া ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
এয়ারলাইনসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ২৯ হাজার ২৯৯ জন, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ২২ হাজার ৪৫৯ জন এবং ফ্লাইনাসের মাধ্যমে ৮ হাজার ৬৭২ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনস ব্যবহার করে আরও ৪ হাজার ১৮৭ জন বাংলাদেশি দেশে পৌঁছেছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবশিষ্ট হাজিদের পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা যায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এছাড়া সৌদি আরবে পরিচালিত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো প্রায় ৬৬ হাজার ৯৬৩ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে।
হজযাত্রীদের সহায়তায় মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্কও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ২৮ হাজার ৩৬০ জন হাজিকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়েছে।
চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুরু হয় ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে। ২১ মে পর্যন্ত প্রাক-হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনের জন্য সুযোগ বরাদ্দ করা হয়।
মন্তব্যসমূহ