হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য ইরানের অনুমতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলার শিকার হয়েছে পাকিস্তানগামী কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকার। ‘আল মায়েদা’ নামের জাহাজটি হামলার পর গতিপথ পরিবর্তন করে পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার (১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল আল মায়েদা। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হামলার শিকার হয়।
জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আগেই ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করেছিল পাকিস্তান।
বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান থেকে জাহাজটিকে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়।
কিন্তু অনুমতি পাওয়ার পরও জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর আল মায়েদা সামনে এগোনোর পরিবর্তে দিক পরিবর্তন করে পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়।
কাতারের গ্যাস পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান নাকিলাত জানিয়েছে, আরব উপসাগরে চলাচলের সময় তাদের আল মায়েদা ট্যাংকারটি অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
জাহাজটি কাতারের মালিকানাধীন হলেও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকায় চলাচল করছিল।
হামলার সময় ট্যাংকারটিতে মোট ২৫ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় নাগরিক।
ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও নৌপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল শনিবার (৩১ অক্টোবর) জানিয়েছেন, ভারতীয় ছয় নাবিকসহ জাহাজের সবাই নিরাপদে রয়েছেন।
নাকিলাতের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশগত ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। জাহাজটি চলাচলের উপযোগী রয়েছে। তবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পাকিস্তান আগে থেকেই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটির নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা করেছিল বলে ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
তবে সেই অনুমতি থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা হলো, তা পরিষ্কার নয়।
হামলার পেছনে কোনো দেশ, সশস্ত্র গোষ্ঠী বা অন্য কোনো পক্ষ জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ কারণে ইরানের কাছ থেকে যাতায়াতের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার প্রমাণ নয়।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, আগের মাসেও কাতার থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশে আসা একাধিক এলএনজি ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ইসলামাবাদ।
সে সময় সমন্বয়ের মাধ্যমে কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে যেতে পেরেছিল।
কিন্তু এবার অনুমতি পাওয়ার পরও আল মায়েদায় হামলার ঘটনা হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাহাজটি আবার পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করবে কি না কিংবা নির্ধারিত গন্তব্যে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আওতায় নিজেদের জাহাজ, সম্পদ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার সংরক্ষণের কথাও জানিয়েছে দোহা।
এ ঘটনায় সৌদি আরব ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
হরমুজ প্রণালির কাছে এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সূত্র : ব্লুমবার্গ
মন্তব্যসমূহ