বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিদ্যমান দুটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার লক্ষ্যে খসড়াগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উভয় খসড়াই লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং বা আইনগত যাচাই-বাছাইয়ের শর্তে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
এরপর সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন হিসেবে পাস করার জন্য বিল দুটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এর আগে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিদ্যমান অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্য নতুন খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের সামনে উপস্থাপনের বিধান রয়েছে। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসংক্রান্ত আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় আনা হয়।
গত ১৯ অক্টোবর বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে দেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত বিস্তারের জন্য বিশেষ আইনি ব্যবস্থা রাখা হয়।
একই বৈঠকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সমান সুযোগ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়।
ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করার লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি আধুনিকায়নের বিষয়টিও সংশোধনীর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির দরপত্রদাতাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ করাই এসব বিধানের উদ্দেশ্য।
সংশোধনীতে সরকারি জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প পদ্ধতিতে ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার বিধানও রাখা হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে কোন পরিস্থিতিতে বিকল্প ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে এবং সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোর বিস্তারিত কী হবে, তা চূড়ান্ত আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদিত হলেও দুটি প্রস্তাব এখনো সংসদে পাস হওয়া আইন নয়।
আইনগত যাচাই-বাছাইয়ের পর খসড়াগুলো বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, অধ্যাদেশ দুটিকে স্থায়ী আইনি কাঠামোর আওতায় আনাই সরকারের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
মন্তব্যসমূহ