বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ নেই বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায় উঠে আসা তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছে দলটি। জামায়াতের দাবি, তাদের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। ওই গবেষণায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরা হয়।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফোরাম হচ্ছে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ নারী সদস্য রয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানান তিনি।
এ ছাড়া দলটির রুকন বা পূর্ণ সদস্যদের মধ্যে নারীদের অংশ প্রায় ৪৩ শতাংশ বলেও দাবি করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অন্যান্য সাংগঠনিক স্তর পর্যন্ত নারীদের কার্যক্রম ও কমিটি রয়েছে।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, টিআইবির গবেষণায় ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটিতে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ নেই’ বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের সব স্তরে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
নারীদের সাংগঠনিক অংশগ্রহণ নিয়েও দলটির অবস্থান স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টিআইবির মতো একটি দায়িত্বশীল সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কোনো গবেষণা বা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
টিআইবি ১ নভেম্বর প্রকাশিত গবেষণায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
গবেষণায় রাজনৈতিক দলের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং নারীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ঘাটতির কথা বলা হয়েছে।
নারী নেতৃত্বের বিষয়ে গবেষণায় জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কোনো নারী সদস্য নেই বলে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে জামায়াতের দাবি, টিআইবির এই তথ্য তাদের বাস্তব সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
তবে কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যপদ টিআইবির গবেষণায় একই সাংগঠনিক শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দলটির দেওয়া নতুন সংখ্যাগুলো এবং গবেষণায় ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় কমিটির সংজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য আছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্যসমূহ