ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শ্রমিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত একাধিক সংবাদকর্মী

সাংবাদিকরা কারও প্রতিপক্ষ নন, তাঁরা সত্য তুলে ধরেন।

শ্রমিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত একাধিক সংবাদকর্মী
এ আই জেনারেট ছবি
ফলো করুন

গাজীপুর মিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাধিক সংবাদকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জামও।

সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। এ সময় তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। একই ঘটনায় এখন টেলিভিশনের প্রতিবেদক ইফতেখার রায়হান ও SA  টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন রেজা ইসলামও আহত হন। এর আগের দিন রোববার (১ নভেম্বর) চন্দ্রা এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপ্ত টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম হামলার শিকার হন। তাঁর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর এসব হামলার ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আন্দোলন থাকতে পারে, মালিকপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতে পারে, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিরোধ কোথায়? সাংবাদিকরা কি শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ? নাকি তাঁদের কাজই হচ্ছে মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরা?

সাংবাদিকরা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, বঞ্চনা, কর্মপরিবেশ, বেতন-ভাতা এবং আন্দোলনের প্রতিটি পরিস্থিতি গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন। শ্রমিকদের বক্তব্য যেমন প্রকাশিত হচ্ছে, তেমনি মালিকপক্ষ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও তুলে ধরছেন তাঁরা। ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর শারীরিক আঘাত নয়, এটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও জনসাধারণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও আঘাত।

শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি। বর্তমানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের একটি অংশ তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন করে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু মজুরি নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আন্দোলন ঘিরে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

সোমবারও গাজীপুরের সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে নামেন। বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। নাওজোড় এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আহত সাংবাদিকদের অভিযোগের বরাতে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ শ্রমিকের পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। ফলে হামলার সঙ্গে প্রকৃত আন্দোলনকারী শ্রমিক, নাকি আন্দোলনের সুযোগ নেওয়া অন্য কোনো পক্ষ জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। মতপ্রকাশ, প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের অধিকার যেমন সংবিধান স্বীকৃত, তেমনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা বা অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা করার অধিকার কারও নেই।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকুক, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক-এটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককেও যেন হামলা, মারধর কিংবা সরঞ্জাম হারানোর আতঙ্কে কাজ করতে না হয়।

আরেকটি বিষয় আন্দোলনকারীদের একটি অংশের মধ্যে কাজ করে। তারা মনে করে, কোনো আন্দোলনকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে হলে সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটাতে হবে। কারণ এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিক ও পুলিশ কেউই আন্দোলনের প্রতিপক্ষ নয়। বরং সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, আর পুলিশ আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে। দাবি আদায়ের আন্দোলন কখনোই হামলা, সহিংসতা কিংবা ভাঙচুরের মাধ্যমে বড় করা উচিত নয়। মতপ্রকাশ ও দাবি আদায়ের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক।

প্রশ্ন থেকেই যায়, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাংবাদিকদের অপরাধ কী? কেন তাঁদের ওপর হাত তুলতে হবে? শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকরাই যদি হামলার শিকার হন, তাহলে মাঠপর্যায়ে সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরবেন কারা?

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আহত একাধিক সংবাদকর্মী

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

গাজীপুর মিরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের একাধিক সংবাদকর্মী। ভাঙচুর করা হয়েছে সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জামও।

সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক মেহেদী হাসান ও ক্যামেরাপারসন হামলার শিকার হন। এ সময় তাঁদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। একই ঘটনায় এখন টেলিভিশনের প্রতিবেদক ইফতেখার রায়হান ও SA  টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন রেজা ইসলামও আহত হন। এর আগের দিন রোববার (১ নভেম্বর) চন্দ্রা এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দীপ্ত টেলিভিশনের গাজীপুর প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম হামলার শিকার হন। তাঁর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর এসব হামলার ঘটনা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে আন্দোলন থাকতে পারে, মালিকপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকতে পারে, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনাও হতে পারে। কিন্তু এসব ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিরোধ কোথায়? সাংবাদিকরা কি শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ? নাকি তাঁদের কাজই হচ্ছে মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরা?

সাংবাদিকরা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, বঞ্চনা, কর্মপরিবেশ, বেতন-ভাতা এবং আন্দোলনের প্রতিটি পরিস্থিতি গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন। শ্রমিকদের বক্তব্য যেমন প্রকাশিত হচ্ছে, তেমনি মালিকপক্ষ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও তুলে ধরছেন তাঁরা। ফলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর শারীরিক আঘাত নয়, এটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও জনসাধারণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও আঘাত।

শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবি। বর্তমানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের একটি অংশ তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন করে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। কিন্তু মজুরি নির্ধারণের এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আন্দোলন ঘিরে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।

সোমবারও গাজীপুরের সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে নামেন। বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। নাওজোড় এলাকায় পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের দেড় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সংঘর্ষে বিজিবির এক সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আহত সাংবাদিকদের অভিযোগের বরাতে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ শ্রমিকের পরিচয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। ফলে হামলার সঙ্গে প্রকৃত আন্দোলনকারী শ্রমিক, নাকি আন্দোলনের সুযোগ নেওয়া অন্য কোনো পক্ষ জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। মতপ্রকাশ, প্রতিবাদ ও দাবি আদায়ের অধিকার যেমন সংবিধান স্বীকৃত, তেমনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো পক্ষের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা বা অপছন্দের সংবাদ প্রকাশের কারণে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা করার অধিকার কারও নেই।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকুক, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক-এটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিককেও যেন হামলা, মারধর কিংবা সরঞ্জাম হারানোর আতঙ্কে কাজ করতে না হয়।

আরেকটি বিষয় আন্দোলনকারীদের একটি অংশের মধ্যে কাজ করে। তারা মনে করে, কোনো আন্দোলনকে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে হলে সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটাতে হবে। কারণ এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।


এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সাংবাদিক ও পুলিশ কেউই আন্দোলনের প্রতিপক্ষ নয়। বরং সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, আর পুলিশ আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে। দাবি আদায়ের আন্দোলন কখনোই হামলা, সহিংসতা কিংবা ভাঙচুরের মাধ্যমে বড় করা উচিত নয়। মতপ্রকাশ ও দাবি আদায়ের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক।

প্রশ্ন থেকেই যায়, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাংবাদিকদের অপরাধ কী? কেন তাঁদের ওপর হাত তুলতে হবে? শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকরাই যদি হামলার শিকার হন, তাহলে মাঠপর্যায়ে সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরবেন কারা?


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ