মিয়ানমারের রাখাইন ও কারেন্নি রাজ্যে সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলায় নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি, সেতু, একটি অস্থায়ী মাতৃসদন ও একটি স্কুল। দুই রাজ্যে পৃথক দিনে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, মানবিক সহায়তাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও, ম্রাউক-ইউ, পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়।
রাখাইনে সক্রিয় আরাকান আর্মির দাবি অনুযায়ী, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
হামলায় আবাসিক এলাকার পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ম্রাউক-ইউ এলাকায় একটি অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র ও মাতৃসদনে বিমান হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সহায়তাকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এক নবজাতকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত অন্যদের মধ্যে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
হামলায় চিকিৎসাকেন্দ্রের ভবন ও আশপাশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়াউকতাও এলাকায় একটি সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পাউকতাও ও কিয়াউকফিউ এলাকায় বসতবাড়িতে হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
রাখাইনের হামলার আগের দিন শনিবার (৩১ অক্টোবর) কারেন্নি রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় লইকাও এলাকায় একটি স্কুলে বিমান হামলা চালানো হয়।
সেদিন শিশুদের জন্য পুষ্টিবিষয়ক একটি কর্মসূচি চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
হামলায় তিন শিশু নিহত হন। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের দেওয়া হিসাবে আহত হয়েছেন আরও পাঁচ শিশু। তবে আনাদোলুর প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা আটজন উল্লেখ করা হয়েছে।
স্কুলে হামলার সময় আশপাশে কোনো সংঘর্ষ চলছিল না বলে দাবি করেছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
এরপর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ জোরদার হয়। বর্তমানে একাধিক জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।
রাখাইন রাজ্যের বড় অংশে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলে সংঘর্ষ ও বিমান হামলার ঘটনা বেড়েছে।
নতুন বিমান হামলার অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসবাস। প্রধানত মুসলিম এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কয়েক দশক ধরে নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে।
সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন পক্ষের নির্যাতন ও সংঘাতের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
নতুন করে বেসামরিক এলাকা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় সংঘাতকবলিত মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ