ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ।

নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি। এ সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিনজন আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আহত অপর দুজন হলেন পীরগঞ্জের উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএসএফ ও কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই সময় ৬ থেকে ৭ জন বাংলাদেশি মই ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে তিনজন আহত হন।

আসাদুল হকের মৃত্যুর পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ বিজিবির কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিএসএফের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে।

ট্যাগ : বিএসএফ বিজিবি ঠাকুরগাঁও

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বিএসএফ।

নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি। এ সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিনজন আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আহত অপর দুজন হলেন পীরগঞ্জের উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম ও নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর পিলারের কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আসাদুলকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিএসএফ ও কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই সময় ৬ থেকে ৭ জন বাংলাদেশি মই ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তাদের লক্ষ্য করে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে তিনজন আহত হন।

আসাদুল হকের মৃত্যুর পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রোববার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ বিজিবির কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিএসএফের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আসাদুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরত আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর রোববার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনার পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ