ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে দ্রুত সামরিক অগ্রগতির পর কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেবের মাঝখানে অবস্থিত মাইয়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর মাধ্যমে প্রণালিটির ইয়েমেনি অংশে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে।
বিশেষ করে সুয়েজ খাল হয়ে চলাচলকারী জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজের জন্য প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
হুতিদের অগ্রগতির আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পরিবহন চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে বাব আল-মান্দেবের পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে উঠলেও শুক্রবার তা কমে ১০৪.৬১ ডলারে স্থির হয়। তারপরও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথে অস্থিরতার কারণে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেব দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হলে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। এতে পরিবহন সময় ও ব্যয় দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রগতি ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ফলে দেশটিতে কয়েক বছরের তুলনামূলক স্থিতিশীলতার পর আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স