দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সন্দেহজনক হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৯ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে ১০০ জনে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজন মারা গেছে।
মৃতদের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগে এবং একজন করে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে মারা গেছে।
একই সময়ে দেশে নতুন করে ৩৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন নিশ্চিত রোগীদের সবাই ঢাকা বিভাগের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৮১৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩৮ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬ জনের শরীরে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুইজন মারা গেছে।
সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪১৩ জন। সিলেটে ১৫৭ জন, রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৭৭ জন, চট্টগ্রামে ৬৯ জন, বরিশালে ৫৭ জন, খুলনায় ৩৯ জন এবং রংপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।