ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সৌদি আরবের অনুরোধে হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান

সৌদি আরবের অনুরোধে হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সরাসরি বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডেকে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে শিগগিরই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হতে পারে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

প্রাথমিক সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের সায়াদাহ অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকা থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সমূলে উৎখাত করতে যৌথ হামলায় অংশ নিতে পারে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেয়নি।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুলাই মাসে ভেঙে যায়। এর পর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ও হামলা জোরদার করায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের আবহা, জাজান, নাজরান এবং খামিস মুসাইত শহরের একাধিক জ্বালানিকেন্দ্র ও নগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং প্রধান জ্বালানিকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এর জবাবে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের আল-জাউফ, মারিব ও আল-হুদায়দায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌদি আরবে যেকোনো সশস্ত্র হামলা হলে, তা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে সক্রিয় করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই চুক্তির আওতায় এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা জোটের সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং বিশাল আর্থিক সম্পদের অধিকারী সৌদি আরব এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়।

ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে তৈরি সামরিক বিমান, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রায় ৮ হাজার সেনাসদস্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রয়েছে। তবে এবার পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে বোমাবর্ষণ শুরু করলে তা হবে মক্কা চুক্তির প্রথম বৃহৎ সামরিক প্রয়োগ, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনীতি বিশ্লেষক জিশান শাহ বলেন, ‘যদি রিয়াদ হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করে, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ইসলামাবাদ নীতিগত অবস্থান কঠোর করছে।’

তথ্যসূত্র: তুর্কিয়ে টুডে

ট্যাগ : হামলা সৌদি আরব পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্য তুরস্ক ইয়েমেন

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সৌদি আরবের অনুরোধে হুতিদের ওপর হামলার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সরাসরি বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। তুর্কি সংবাদমাধ্যম তুর্কিয়ে টুডেকে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে শিগগিরই এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হতে পারে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

প্রাথমিক সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইয়েমেনের সায়াদাহ অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকা থেকে হুতি বিদ্রোহীদের সমূলে উৎখাত করতে যৌথ হামলায় অংশ নিতে পারে পাকিস্তান। তবে এ বিষয়ে ইসলামাবাদ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সবুজ সংকেত দেয়নি।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত জুলাই মাসে ভেঙে যায়। এর পর থেকেই সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ও হামলা জোরদার করায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাধার মুখে পড়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন হুতিরা সৌদি আরবের আবহা, জাজান, নাজরান এবং খামিস মুসাইত শহরের একাধিক জ্বালানিকেন্দ্র ও নগরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং প্রধান জ্বালানিকেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এর জবাবে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের আল-জাউফ, মারিব ও আল-হুদায়দায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সৌদি আরবে যেকোনো সশস্ত্র হামলা হলে, তা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে সক্রিয় করতে পারে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই চুক্তির আওতায় এক সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা জোটের সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক, বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান এবং বিশাল আর্থিক সম্পদের অধিকারী সৌদি আরব এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়।

ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে তৈরি সামরিক বিমান, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রায় ৮ হাজার সেনাসদস্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রয়েছে। তবে এবার পাকিস্তান সরাসরি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে বোমাবর্ষণ শুরু করলে তা হবে মক্কা চুক্তির প্রথম বৃহৎ সামরিক প্রয়োগ, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক রাজনীতি বিশ্লেষক জিশান শাহ বলেন, ‘যদি রিয়াদ হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করে, সে ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরাসরি বিমান হামলায় অংশ না নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের ফলে ইসলামাবাদ নীতিগত অবস্থান কঠোর করছে।’

তথ্যসূত্র: তুর্কিয়ে টুডে


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ