ইয়েমেনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, মারিব, আল-জউফ, তাইজ ও হুদায়দাহসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বেশ কয়েকটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
হুতি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে হামলার সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলমান। ২০২২ সালে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর কিছু সময় পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে।
হুতিদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকারিতা হারানোর পর তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে বলে হুতি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে। এসব অভিযানে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি কিছু বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হুতি বাহিনীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বরাতে বলা হয়েছে, সৌদি বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে ইয়েমেনের ভেতরে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
হুতি সূত্র আরও দাবি করেছে, এসব হামলায় সৌদি আরবের আবহা, নাজরান, জাজান ও খামিস মুশাইতের কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের কিছু ঘটনার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন সংঘাতের নতুন করে তীব্রতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।