ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

২-৩ মাসের মধ্যে ঢাকার নদীপথে আবারও চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: নৌমন্ত্রী

২-৩ মাসের মধ্যে ঢাকার নদীপথে আবারও চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: নৌমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আগের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকায় এবার নতুন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সেবা চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়কের যানজট কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি জানান, আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ওয়াটার বাস পরিচালনায় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নৌপথের নিরাপত্তা বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চের পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় মালিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুট ডিক্লারেশন, সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার, টার্মিনালে মাইকিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদীর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় নদীর গভীরতা বেড়ে ৮ মিটারে উন্নীত হয়েছে।

নদী দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএর সরাসরি উচ্ছেদ করার আইনি ক্ষমতা নেই। দখলদারদের তালিকা তৈরির পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের ৪২৪টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ : শেখ রবিউল আলম বিআইডব্লিউটিএ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওয়াটার বাস

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২-৩ মাসের মধ্যে ঢাকার নদীপথে আবারও চালু হচ্ছে ওয়াটার বাস: নৌমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আগের ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকায় এবার নতুন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সেবা চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নৌপথে ওয়াটার বাস চালু হলে নগরবাসীর যাতায়াত সহজ হবে এবং সড়কের যানজট কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি জানান, আগের ব্যবস্থাপনায় ১০ বছরে ওয়াটার বাস পরিচালনায় প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার নতুন ব্যবস্থাপনায় সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নৌপথের নিরাপত্তা বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চের পরিবর্তে দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনায় মালিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুট ডিক্লারেশন, সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার, টার্মিনালে মাইকিং এবং গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত নৌযানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে বর্তমানে দেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদীর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে সদরঘাট-বাকলিয়ার চর এলাকায় নদীর গভীরতা বেড়ে ৮ মিটারে উন্নীত হয়েছে।

নদী দখল ও দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএর সরাসরি উচ্ছেদ করার আইনি ক্ষমতা নেই। দখলদারদের তালিকা তৈরির পর স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি জানান, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের ৪২৪টি উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ