ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা সঠিকভাবে জাকাত প্রদান করলে এবং শরিয়াহ নির্ধারিত আটটি খাতে পরিকল্পিতভাবে তা বিতরণ করা গেলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করতে পারে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী বলেন, যাদের কাছে শরিয়াহ নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ বা ‘নিসাব’ রয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী জাকাত প্রদান করা উচিত। পাশাপাশি পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাকাতের অর্থ প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নারী-পুরুষরা সঠিকভাবে জাকাত দিলে এবং তা নির্ধারিত খাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে দেশের দারিদ্র্য কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতকে কাজে লাগাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের জাকাত ব্যবস্থাপনার বড় অংশ বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য মাদ্রাসা ও এতিমখানা জাকাতের অর্থের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় ভূমিকা রাখছে।
মন্ত্রী বলেন, জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে গঠিত সংস্কার কমিটি বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে।
তিনি জানান, মাদ্রাসাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জাকাত ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজ করা এবং নিয়ম মেনে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে চেকের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, জাকাত ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং সরকারি জাকাত ফান্ডের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে একটি কার্যকর জাকাত ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এর সুফল দৃশ্যমান হবে।