ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে রোববার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী। বাতিল হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮টি ফ্লাইট।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মাউন্ট আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এর বিকট শব্দ শত শত কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। পরদিন রোববার আগ্নেয়গিরিটিতে আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছাই ও লাভা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায়।
রোববার রাত দেড়টা থেকে সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সুমাত্রা ও জাভার আকাশে আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে ওই অঞ্চলে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।
বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার বান্দারল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন টু বিমানবন্দর। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আট বিমানবন্দরে মোট ১ হাজার ৫৮৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী।
রাজধানী জাকার্তার সোকার্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই বাতিল হয়েছে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেমারাং ও সুরাবায়ার কয়েকটি বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ৪৪ বছর বয়সী এক যাত্রী হেননি ইয়েনসান বলেন, মায়ের সঙ্গে নিজ শহরে ফেরার কথা থাকলেও ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। তবে এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
ব্যবসায়ী স্যামুয়েল গিবের্তো জানান, ব্যবসায়িক কাজে লম্বক দ্বীপে গিয়ে তিনি সেখানে আটকা পড়েছেন। রাজধানীতে ফেরার জন্য বিকল্প ফ্লাইট খুঁজছেন, তবে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত নয়।
আরেক যাত্রী জানান, তিনি বিকল্প একটি ফ্লাইটের টিকিট পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়ে লম্বকেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে।