ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৪৩৪১ হাজিকে হজ প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত

৪৩৪১ হাজিকে হজ প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব পর্বে বাড়িভাড়া নির্ধারিত খরচের চেয়ে কম হওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ কমানোর কারণে কিছু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। সেই অব্যয়িত অর্থ হাজিদের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

তিনি এটিকে হাজিদের স্বার্থে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম খরচ হওয়ায় এই ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ২৩ জন হাজির ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্য বিমার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই নিবন্ধিত হাজিরা হজ পালন করতে পেরেছেন।

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হাজিদের সুবিধার জন্য হজক্যাম্পে বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং, নারী হাজিদের জন্য আলাদা ওজুখানা ও টয়লেটসহ বিভিন্ন নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হজের ব্যয় কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছিল। আগামী হজেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

২০২৬ সালের সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ চালু ছিল। এসব প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী হাজিদের ফেরতের অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্যাকেজ-১ এর আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির হাজিরা প্রায় ৩৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

প্যাকেজ-২ এর আওতায় হোটেল ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী কয়েক হাজার টাকা থেকে প্রায় ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরতের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ-৩ এর হাজিরাও নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হাজিদের সতর্ক করে বলা হয়, রিফান্ডের অর্থ পাঠানোর জন্য কখনোই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের পিন ও ওটিপি চাওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো ফোন বা বার্তা পেলে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : হজ ২০২৬ ধর্ম মন্ত্রণালয়

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৪৩৪১ হাজিকে হজ প্যাকেজের উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

২০২৬ সালের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্যাকেজের উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব পর্বে বাড়িভাড়া নির্ধারিত খরচের চেয়ে কম হওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ কমানোর কারণে কিছু অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। সেই অব্যয়িত অর্থ হাজিদের কাছে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

তিনি এটিকে হাজিদের স্বার্থে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজি ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত পাবেন। অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাজিদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে কম খরচ হওয়ায় এই ফেরত দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ২৩ জন হাজির ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্য বিমার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো বড় ধরনের জটিলতা ছাড়াই নিবন্ধিত হাজিরা হজ পালন করতে পেরেছেন।

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হাজিদের সুবিধার জন্য হজক্যাম্পে বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং, নারী হাজিদের জন্য আলাদা ওজুখানা ও টয়লেটসহ বিভিন্ন নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হজের ব্যয় কমানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজে বিমানভাড়া আগের বছরের তুলনায় কমানো হয়েছিল। আগামী হজেও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

২০২৬ সালের সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ চালু ছিল। এসব প্যাকেজ ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী হাজিদের ফেরতের অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হবে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্যাকেজ-১ এর আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির হাজিরা প্রায় ৩৮ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি পর্যন্ত ফেরত পাবেন।

প্যাকেজ-২ এর আওতায় হোটেল ও আবাসনের ধরন অনুযায়ী কয়েক হাজার টাকা থেকে প্রায় ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরতের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ-৩ এর হাজিরাও নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ফেরত পাবেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হাজিদের সতর্ক করে বলা হয়, রিফান্ডের অর্থ পাঠানোর জন্য কখনোই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, বিকাশ, নগদ কিংবা রকেটের পিন ও ওটিপি চাওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো ফোন বা বার্তা পেলে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ