ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা, গ্রেফতার ৩
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন নামে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনই আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার তিনজন আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে তারা কুমিল্লায় আসেন এবং পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা ছিল। ঘরের কাঠের আলমারি খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে জানা যায়, বাড়িতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে অবস্থান করা কয়েকজন শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, ঢাকার কদমতলী এলাকার শরীফুল ইসলাম শান্ত, কুমিল্লার মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন এবং লাকসামের ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন আগে চট্টগ্রামে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে ছমিরনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন ধান কাটার কাজ ঠিকমতো না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তারা।

রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এরপর তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, হত্যার পর তারা বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে চান্দিনা থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা মামলাটির তদন্তভার নেয়।

তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।

ট্যাগ : কুমিল্লা চান্দিনা বৃদ্ধা হত্যা

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা, গ্রেফতার ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার চান্দিনায় ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে ছমিরন খাতুন নামে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই।

পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনই আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় পিবিআই কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার তিনজন আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ফিশারি ঘাটে একসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে তারা কুমিল্লায় আসেন এবং পরিকল্পিতভাবে ছমিরন খাতুনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

গত ৩ মে সকালে চান্দিনা উপজেলার অলিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ছমিরন খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শয়নকক্ষের দরজা খোলা ছিল। ঘরের কাঠের আলমারি খোলা এবং কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে জানা যায়, বাড়িতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে অবস্থান করা কয়েকজন শ্রমিক টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, ঢাকার কদমতলী এলাকার শরীফুল ইসলাম শান্ত, কুমিল্লার মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিন এবং লাকসামের ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেন আগে চট্টগ্রামে একসঙ্গে কাজ করতেন। পরে তারা ধানকাটা শ্রমিকের পরিচয়ে ছমিরনের বাড়িতে অবস্থান নেন।

পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনার দিন ধান কাটার কাজ ঠিকমতো না জানা এবং ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছমিরন খাতুন ও তার স্বামীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তারা।

রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ছমিরন খাতুনের ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এরপর তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান।

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, হত্যার পর তারা বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. বশির আহাম্মদ চান্দিনা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে চান্দিনা থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে ১০ মে পিবিআই কুমিল্লা জেলা মামলাটির তদন্তভার নেয়।

তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরীফুল ইসলাম শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সী আরাফাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. মাসুম বিল্লা ওরফে রবিনকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ