কারও কাছে ‘‘ভালো আছি’’ বলাই যেন এক ধরনের স্বাভাবিক উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই কথার আড়ালে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে এক গভীর মানসিক চাপ, যা প্রকাশ পায় না। সমাজের বিধিনিষেধ ও ভূমিকার কারণে চাপা থাকে মানুষের ভিতরের মনের অবস্থা।
সাফল্যের আড়ালে, হাসির আড়ালে অনেকেই চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন কিন্তু জানান দিচ্ছেন না। অনেক সময় সন্তান বা পরিবারের জন্য ‘শক্ত’ থাকার ভান করতে হয়, আবার লিঙ্গভিত্তিক প্রত্যাশাও মানসিক চাপ লুকিয়ে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পুরুষরা ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় যে কাঁদতে বা দুর্বল হতে পারবে না।
মানসিক চাপ অবহেলা করলে তা শরীর ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘকাল স্ট্রেসের কারণে শরীরে করটিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা ঘুম, খাওয়া ও মেজাজ বিঘ্নিত করে। এছাড়া হজমতন্ত্রের নানা সমস্যা এবং বয়স বৃদ্ধি দ্রুততর হয়।
দৈনন্দিন কাজের পরিবেশেও অকৃত্রিম চাপ তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসের আর্দ্রতার বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, আলো ও শব্দের অতিরিক্ততা মানসিক চাপকে বাড়ায়। নিস্তব্ধতা অথবা একাগ্রতা বিঘ্নিত পরিবেশও চাপকে তীব্র করে। অফিসে মাঝে মাঝে হাঁটা ও পরিবেশ পরিবর্তন করাও চাপ কমাতে সহায়ক।
অন্ধকার বা সম্পূর্ণ অন্ধকার পরিবেশে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়, উদ্বেগ ও ভয়ের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই মানসিক চাপ লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে সমস্যা বুঝে সমাধান খোঁজা জরুরি।
মানসিক প্রশান্তির জন্য ‘নেম ইট টু টেম ইট’ নীতিটি অনুসরণ করুন, অর্থাৎ নিজের অনুভূতি সঠিকভাবে চিন্হিত করুন। কাজের জায়গায় আলো-বাতাস ঠিক রাখুন, মাঝেমধ্যে বিরতি নিয়ে হাঁটাচলা করুন। এসব পরিবর্তন মানসিক সুস্থতায় দারুণ ভূমিকা রাখে।