জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক তাদের কমেন্ট বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। ব্যবহারকারীদের আরও সহজ ও বৈচিত্র্যময়ভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে ভয়েস কমেন্ট, পোল, একাধিক ছবির ক্যারোসেল এবং লাইভ ফটো কমেন্টের মতো নতুন সুবিধা যুক্ত করছে প্ল্যাটফর্মটি।
টিকটকের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন ভয়েস কমেন্ট সুবিধার মাধ্যমে ভিডিওর নিচে লিখিত মন্তব্যের পরিবর্তে সরাসরি কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে। এ জন্য কমেন্ট বক্সে থাকা মাইক্রোফোন আইকনে ট্যাপ করে সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড করা যাবে। পোস্ট করার পর অন্য ব্যবহারকারীরা সেই ভয়েস কমেন্ট শুনতে পারবেন।
প্রথম পর্যায়ে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ভয়েস কমেন্ট সুবিধাটি চালু করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে এটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে টিকটকের।
ভয়েস কমেন্টের ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটির কমিউনিটি গাইডলাইন প্রযোজ্য থাকবে। আপত্তিকর বা নীতিমালা লঙ্ঘনকারী অডিও শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানব পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হবে।
নতুন আপডেটে কমেন্টের মধ্যেই পোল তৈরির সুযোগ পাচ্ছেন কনটেন্ট নির্মাতারা। কোনো ক্রিয়েটর নিজের ভিডিওতে কমেন্ট করার সময় সর্বোচ্চ পাঁচটি বিকল্প দিয়ে পোল তৈরি করতে পারবেন। ভোট কত সময় চালু থাকবে, সেটিও নির্ধারণ করা যাবে। ভোটের ফলাফল সরাসরি কমেন্ট বিভাগে দেখা যাবে।
এই পোল সুবিধাটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে চালু করেছে টিকটক। এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরবর্তী ভিডিওর বিষয়, পোশাক, খাবার বা অন্য কোনো বিষয়ে সরাসরি মতামত জানতে পারবেন নির্মাতারা।
ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। আগে একটি কমেন্টে একটি ছবি যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও নতুন ‘ফটো ক্যারোসেল কমেন্ট’ সুবিধায় একসঙ্গে সর্বোচ্চ নয়টি ছবি পোস্ট করা যাবে। ফলে কোনো ভ্রমণ, অনুষ্ঠান বা বিশেষ মুহূর্তের একাধিক ছবি একটি কমেন্টের মধ্যেই শেয়ার করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে লাইভ ফটো কমেন্টও যুক্ত করেছে টিকটক। মোবাইলের গ্যালারিতে থাকা লাইভ ফটো সরাসরি কমেন্টে দেওয়া যাবে, যেখানে স্থির ছবির পাশাপাশি অল্প সময়ের নড়াচড়াও দেখা যাবে।
লাইভ ফটো কমেন্ট বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পাওয়া যাচ্ছে। আর ফটো ক্যারোসেল সুবিধাটি আগামী এক মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সবার কাছে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে টিকটক।
নতুন এসব সুবিধার মাধ্যমে কমেন্ট বিভাগকে শুধু প্রতিক্রিয়া জানানোর জায়গা না রেখে ব্যবহারকারীদের মধ্যে আরও সক্রিয় কথোপকথন ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।