ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পৃথক লেন ও চার্জিং স্টেশন দাবি

ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পৃথক লেন ও চার্জিং স্টেশন দাবি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন, নির্ধারিত পার্কিং এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি মোট ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি উপস্থাপন করেন।

দাবি আদায়ে আগামী সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, সম্প্রতি সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনায় উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স ও চলাচল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

তার দাবি, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে প্রায়ই যানজট, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু বেকারত্বের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এগুলো ব্যবহার করছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাতের দিকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার সময় অধিকাংশ ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। ফলে সমস্যার সমাধান না করে শুধু এসব যানবাহনকে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নয়।

সংগ্রাম পরিষদের দাবি, তারা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, লাইসেন্স, রুট পারমিট ও নিরাপত্তাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।

সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন, স্থানীয় উৎপাদকদের অনুমোদিত নকশায় ই-রিকশা তৈরির সুযোগ দেওয়া এবং মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে সরকারি সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন সরকার অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে অন্তত দুই বছর সময় দেওয়ারও দাবি করেছে সংগঠনটি।

সবশেষে যানজট কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ : ব্যাটারিচালিত রিকশা ইজিবাইক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য পৃথক লেন ও চার্জিং স্টেশন দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন, নির্ধারিত পার্কিং এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি মোট ছয় দফা দাবি তুলে ধরে। সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি উপস্থাপন করেন।

দাবি আদায়ে আগামী সেপ্টেম্বরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচিও জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, সম্প্রতি সরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনায় উৎপাদন, চার্জিং, লাইসেন্স ও চলাচল ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

তার দাবি, ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে প্রায়ই যানজট, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু বেকারত্বের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ থাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এগুলো ব্যবহার করছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাতের দিকে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার সময় অধিকাংশ ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। ফলে সমস্যার সমাধান না করে শুধু এসব যানবাহনকে দায়ী করা বাস্তবসম্মত নয়।

সংগ্রাম পরিষদের দাবি, তারা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন, লাইসেন্স, রুট পারমিট ও নিরাপত্তাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।

সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন, স্থানীয় উৎপাদকদের অনুমোদিত নকশায় ই-রিকশা তৈরির সুযোগ দেওয়া এবং মেকানিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে সরকারি সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইকসহ অন্যান্য যানবাহন সরকার অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে অন্তত দুই বছর সময় দেওয়ারও দাবি করেছে সংগঠনটি।

সবশেষে যানজট কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মহাসড়কগুলোতে স্বল্পগতির ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ