সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির স্বজনদের দাবি, বর্তমানে সে প্রায় ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় এক মাদ্রাসাশিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নূর আলম (৩৫) শ্যামনগর উপজেলার গুমানতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক। শিশুটির বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলায়। পড়াশোনার জন্য সে শ্যামনগরে নানার বাড়িতে থাকত এবং নূর আলমের স্ত্রীর কাছে প্রাইভেট পড়ত।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুটিকে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী, হযরত (১৭) ও আবু হাসানের (১৪) বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, হযরত শিশুটির গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভয়ে সে দীর্ঘদিন কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেনি।
শিশুটির মা বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, মেয়ের কাছ থেকেই ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছেন। শিশুটির নানি বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে নাতনি তার কাছে থাকলেও আগে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত নূর আলমের স্ত্রী জেসমিন। তার দাবি, শিশুটির নানির সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই তার স্বামীকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
জেসমিন বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) শিশুটিকে নিয়ে শ্যামনগর থানায় যান তার স্বজনরা। সেখানে নূর আলম ছাড়াও হযরত ও আবু হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্যসমূহ