ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঘুষের মামলায় ৩ বছরের সাজা, হাইকোর্টে খালাস নীল বরণ ত্রিপুরা

ঘুষের মামলায় ৩ বছরের সাজা, হাইকোর্টে খালাস নীল বরণ ত্রিপুরা
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও জাল নথি তৈরির অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারায় নিম্ন আদালতের দণ্ড বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. বশীর উল্লাহর একক বেঞ্চ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, দাপ্তরিক নথিতে অনিয়ম বা জাল নোটিশ ইস্যুর ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তবে গুরুতর সন্দেহও সন্দেহাতীত প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি করা হয়।

ছাতকে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত নীল বরণ ত্রিপুরাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি।

আপিলের শুনানিতে হাইকোর্ট দেখতে পান, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা ঘুষ লেনদেনের কথা বললেও কবে, কখন, কোথায় এবং কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ফলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণে নির্ভরযোগ্য ঘাটতি থেকে যায়।

আদালত আরও বলেন, এজাহারে থাকা অভিযোগের সঙ্গে সাক্ষীদের মৌখিক বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। মামলার মূল সাক্ষীকেও আদালতে পরীক্ষা করা হয়নি। তার পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথার ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট মনে করেন, নীল বরণ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ বাতিল করে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

ট্যাগ : হাইকোর্ট ঘুষের মামলা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


ঘুষের মামলায় ৩ বছরের সাজা, হাইকোর্টে খালাস নীল বরণ ত্রিপুরা

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঘুষ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎ ও জাল নথি তৈরির অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগের পক্ষে ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে না পারায় নিম্ন আদালতের দণ্ড বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. বশীর উল্লাহর একক বেঞ্চ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, দাপ্তরিক নথিতে অনিয়ম বা জাল নোটিশ ইস্যুর ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তবে গুরুতর সন্দেহও সন্দেহাতীত প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

মামলার নথি অনুযায়ী, নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি করা হয়।

ছাতকে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করা হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলার বিচার শেষে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত নীল বরণ ত্রিপুরাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি।

আপিলের শুনানিতে হাইকোর্ট দেখতে পান, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা ঘুষ লেনদেনের কথা বললেও কবে, কখন, কোথায় এবং কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ফলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণে নির্ভরযোগ্য ঘাটতি থেকে যায়।

আদালত আরও বলেন, এজাহারে থাকা অভিযোগের সঙ্গে সাক্ষীদের মৌখিক বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। মামলার মূল সাক্ষীকেও আদালতে পরীক্ষা করা হয়নি। তার পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথার ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ করা যায় না।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট মনে করেন, নীল বরণ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ বাতিল করে তাকে খালাস দেওয়া হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ