সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে এ প্রস্তাব দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ বাদ দিয়ে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর সামরিক সমাধান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান আরাগচি।
ইরানের এই উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময়ে, যখন হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইয়েমেন ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে ইরান বলছে, সামরিক সংঘাত বাড়িয়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।
ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। এর আগে সাত বছর তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ অবস্থায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগে ইরানের প্রস্তাব কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সামরিক সংঘাতের মধ্যেই তেহরানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে নতুন কোনো পথ তৈরি করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্যসমূহ