যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত এবং নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান। রোববার প্রতি মার্কিন ডলার ২০ লাখ রিয়ালে লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রিয়ালের এই দরপতন এমন সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আসন্ন পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রয়টার্সও নিশ্চিত করেছে, সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্বল মুদ্রার কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে ছিল। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোর ক্ষতি, বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং তেল রপ্তানি কমে যাওয়ায় সেই সংকট আরও গভীর হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছায় এবং খাদ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় ১২৮ শতাংশ বেড়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাত শুরু হয়। এরপর ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যেও তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মার্কিন ও ইরানি অবরোধ এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার মাত্র ১৩টি এবং রোববার প্রাথমিক হিসাবে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।
একই সঙ্গে মার্কিন অবরোধের প্রভাবে চীনের ক্রেতাদের কাছে ইরানি অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ প্রস্তাব কমেছে এবং দাম বেড়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা আয় আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন সাধারণ ইরানিদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে খাদ্য, ওষুধ ও আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্যসমূহ