ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর) কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলন তীব্র রূপ ধারণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলন মূলত ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এর সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, লেখক, সমাজকর্মী ও বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। ফলে মাঠপর্যায়ে আন্দোলনের বিস্তৃতির পাশাপাশি দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরও চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে আয়োজিত বিশাল গণসমাবেশে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠী।
সমাবেশে ধ্রুব রাঠী বিভিন্ন বুথ ও ভোটকেন্দ্রের অসঙ্গতি তুলে ধরে অভিযোগ করেন, পুনর্নিরীক্ষণের নামে জীবিত ও বৈধ ভোটারদের অনুপস্থিত বা মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশ রাজও এই প্রক্রিয়াকে গণতন্ত্র ও সাধারণ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেন। সমাবেশ থেকে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এই পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিতের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে আগামী ১০ অক্টোবর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ঘোষিত জাতীয় পর্যায়ের সমাবেশকে সামনে রেখে রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২২১ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড় ও জম্মু-কাশ্মীর থেকেও অতিরিক্ত কমান্ডো ও পুলিশ সদস্য তলব করা হয়েছে। জেড-প্লাস সুরক্ষাপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় ও বাসভবনে বাড়তি পাহারা বসানো হয়েছে।
এর আগে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করায় বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ এবং রাজঘাটসহ সংবেদনশীল এলাকায় জমায়েত ঠেকাতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। ইতোমধ্যে প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায়, শিক্ষাবিদ জয়তী ঘোষ, তনিকা সরকার, অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজ, পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক, বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহর মতো নাগরিকরা আন্দোলনের দাবির প্রতি আনুষ্ঠানিক সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের ভাষ্য, একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল তালিকা তৈরির লক্ষ্যে কেবল দ্বৈত ও মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতেই এই আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ