ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গৃহায়নে দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইন প্রশাসন

গৃহায়নে দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইন প্রশাসন
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন যে গৃহায়ন খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পের মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনা তার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই ঘটে গেলো, তবে তিনি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব শাখা দপ্তরে দুর্নীতি ধরা পড়েছে, সেখানে কঠোর পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে অনিয়ম বন্ধে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ২০ জনের অধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি অনিয়ম উদঘাটনে তদন্তও চলছে। চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে গৃহায়নে দুর্নীতি বন্ধ করতে পর্যায়ক্রমে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসনিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ভরাট কেলেংকারির প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর সেগুনবাগিচাস্থ গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকৌশলীসহ অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দাবি করছেন ও প্রশাসনে অস্থিরতা চলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অপরাধবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ আহম্মেদ গাজী জানিয়েছেন যে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তদের কর্মস্থলে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে পদোন্নতি বিতর্কিতভাবে দেয়া হয়, তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে ১১ বছর পর সম্প্রতি মাটি ভরাট কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই এই প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মোট বাজেট প্রায় ৪২ কোটি টাকা। মাটি ভরাট, রোড ও ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রাক্কলিত বাজেট কিছু কোটি টাকা ছিল এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়।

দুদকের তদন্তে প্রাথমিকত প্রমাণিত হয়েছে যে অভিযুক্তরা মাটি ভরাট না করে সরকারি ৪৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এর ফলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মত দিয়েছেন যে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করতে আইনগত বাধা নেই।

প্রকল্প শুরু হওয়ার সময়, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে মাটি না ভরাট করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যা দীর্ঘ বছর ধরে প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকলেও, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যা অফিসে অস্থিরতার কারণ হয়েছে।

সেগুনবাগিচায় গৃহায়নের প্রধান কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দুদকে মামলা দায়ের হয়েছে; তবুও অভিযুক্তরা ধরা পড়ছেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা বেঁচে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কারণে অফিসে বিরোধ ও কাজের ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।

ট্যাগ : ফেরদৌসী বেগম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


গৃহায়নে দুর্নীতির লাগাম টানতে হার্ডলাইন প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম জানিয়েছেন যে গৃহায়ন খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পের মাটি ভরাট কেলেংকারির ঘটনা তার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেই ঘটে গেলো, তবে তিনি তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব শাখা দপ্তরে দুর্নীতি ধরা পড়েছে, সেখানে কঠোর পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। সেগুনবাগিচাস্থ প্রধান কার্যালয়ে অনিয়ম বন্ধে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ২০ জনের অধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; পাশাপাশি অনিয়ম উদঘাটনে তদন্তও চলছে। চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে গৃহায়নে দুর্নীতি বন্ধ করতে পর্যায়ক্রমে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসনিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ভরাট কেলেংকারির প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর সেগুনবাগিচাস্থ গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রকৌশলীসহ অনেক সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দাবি করছেন ও প্রশাসনে অস্থিরতা চলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

অপরাধবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ আহম্মেদ গাজী জানিয়েছেন যে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তদের কর্মস্থলে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে পদোন্নতি বিতর্কিতভাবে দেয়া হয়, তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পে ১১ বছর পর সম্প্রতি মাটি ভরাট কাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই এই প্রকল্প অনুমোদন করে, যার মোট বাজেট প্রায় ৪২ কোটি টাকা। মাটি ভরাট, রোড ও ড্রেন নির্মাণ কাজের জন্য বিশেষভাবে প্রাক্কলিত বাজেট কিছু কোটি টাকা ছিল এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়।

দুদকের তদন্তে প্রাথমিকত প্রমাণিত হয়েছে যে অভিযুক্তরা মাটি ভরাট না করে সরকারি ৪৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এর ফলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মত দিয়েছেন যে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করতে আইনগত বাধা নেই।

প্রকল্প শুরু হওয়ার সময়, প্রভাবশালী একটি চক্র গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের যোগসাজশে মাটি না ভরাট করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যা দীর্ঘ বছর ধরে প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা থাকলেও, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যা অফিসে অস্থিরতার কারণ হয়েছে।

সেগুনবাগিচায় গৃহায়নের প্রধান কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দুদকে মামলা দায়ের হয়েছে; তবুও অভিযুক্তরা ধরা পড়ছেন না এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তারা বেঁচে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কারণে অফিসে বিরোধ ও কাজের ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ