স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই, তবে এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ সম্পন্ন হবে না। বৃহস্পতিবার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আয়োজিত সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মীর শাহে আলম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী শিক্ষকদের পদ লাভজনক হিসেবে গণ্য হয়।
তবে বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এ দিন বা আগামিকাল অবশ্যই হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি সফল হবে।
জাতীয়করণের জন্য অতিরিক্ত বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন,教師-সমাবেশের মাধ্যমে মানবিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি উপস্থাপন করলে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবে।
সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ক্ষমতায় এসে সরকার শিক্ষাখাত পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ অবসরে যাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধের জন্য দুই হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগে প্রতিমন্ত্রী জানালেন, প্রতি প্রতিষ্ঠানকে ৫.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রয়ে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করতে সক্ষম করবে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অনেকে।
মন্তব্যসমূহ