কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন বেসামরিক নাগরিক এবং হামলাকারী নিজেও রয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো শহরে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি শহরের কোট-দে-নেইজ এলাকায় ঘটে, যেখানে আংশিকভাবে ইহুদি অধ্যুষিত একটি অঞ্চল অবস্থিত। ওই এলাকায় কোশের বাজার ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। তবে পুলিশ এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি এবং এটি ঘৃণাজনিত অপরাধ বা সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা তদন্তাধীন রয়েছে।
ফরাসি ভাষার সরকারি গণমাধ্যম রেডিও কানাডার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীর সঙ্গে ‘ইনসেল’ মতাদর্শের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘ইনসেল’ শব্দটি এমন এক অনলাইন-ভিত্তিক মতাদর্শকে বোঝায়, যেখানে কিছু পুরুষ নিজেদের সম্পর্ক ব্যর্থতার কারণে চরমপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অতীতেও কানাডায় এমন মতাদর্শ-সম্পর্কিত সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে।
মন্ট্রিয়ল পুলিশ প্রধান ফাদি দাগের ঘটনাটিকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি এবং ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোট-দে-নেইজ এলাকায় সক্রিয় বন্দুক হামলার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে একটি ভবনের ভেতর থেকে দীর্ঘ অস্ত্র দিয়ে হামলাকারী গুলি চালাচ্ছিল।
পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকধারীর গোলাগুলি শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীকে সামরিক ধাঁচের পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যায় এবং তিনি পরিকল্পিতভাবে গুলি চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ঘটনায় একজন পুরুষ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়।
নিহত বেসামরিক নাগরিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সহিংস ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং তিনি এতে গভীরভাবে ব্যথিত।
সূত্র : রেডিও কানাডা