ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বিষাক্ত মালয়েশিয়া, বিপজ্জনক বায়ুদূষণ

ইন্দোনেশিয়ার জঙ্গল ও পিটল্যান্ডে জ্বলতে থাকা ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় বিষাক্ত হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের বিভিন্ন এলাকার বাতাস। তীব্র বায়ুদূষণের কারণে দেশটিতে শ্বাসযন্ত্রের নানা রোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে বাতিল করতে হয়েছে স্বাধীনতা দিবসের বেশ কিছু বহিরাঙ্গন আয়োজন।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের ছয়টি এলাকায় বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির বায়ুদূষণ সূচকে ১০০-এর বেশি স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কুচিংয়ে সূচক ৪০৭ এবং সেরিয়ানে ৪০৮-এ পৌঁছায়।[BANGVIEWS-POST:4909]ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও অঞ্চল, যা কালিমানতান নামে পরিচিত, সেখানকার দাবানলের ধোঁয়া আগস্টজুড়ে মালয়েশিয়ার সারাওয়াকের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়েছে মালয়েশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল, ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরেও।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৫ সালের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি অন্যতম ভয়াবহ ধোঁয়াশা পরিস্থিতি। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় কয়েক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচ লাখের বেশি মানুষ শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগেছিলেন।কুচিংয়ের বাসিন্দা মিয়া এমিলিয়া হাসান জানান, এক মাসের বেশি সময় ধরে তিনি পরিষ্কার আকাশ দেখতে পাননি। তার ১০ মাস বয়সি শিশুসন্তান ফুসফুসের সংক্রমণের চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও ধোঁয়ার কারণে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে।মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশটিতে হাঁপানির রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৮১১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ২১৯ জন।একই সময়ে চোখের প্রদাহ বা কনজাংটিভাইটিসের ঘটনাও ১৪৬ থেকে বেড়ে ৭২০-এ পৌঁছেছে।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান দক্ষিণাঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার আন্তঃসীমান্ত ধোঁয়াশা সতর্কতা জারি করেছে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া ও বাড়তে থাকা দাবানলের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বায়ুদূষণের কারণে সারাওয়াকে স্বাধীনতা দিবসের কিছু বহিরাঙ্গন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সূচক ৫০০ ছাড়ালে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।দূষণের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। বায়ুর মানের সূচক বেড়ে যাওয়ায় কুচিং ও আশপাশের প্রায় ৬০০ স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মালয়েশিয়ার এই সংকটের মূল উৎস ইন্দোনেশিয়া। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মানুষ শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসা নিয়েছেন।ইন্দোনেশিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে দুই লাখ হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে। শুধু জুলাই মাসেই প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এসব দাবানলের বড় অংশই জমি পরিষ্কারের উদ্দেশ্যে লাগানো আগুন থেকে শুরু হয়। পাম তেল, কৃষি ও কাগজশিল্পের জন্য বন এবং কার্বনসমৃদ্ধ পিটল্যান্ডে আগুন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দাবানলের ঘটনায় ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4908]বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চলতি দাবানলের মৌসুম আরও দীর্ঘ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবহাওয়া আরও উষ্ণ ও শুষ্ক হয়ে উঠছে।মালয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, পিটল্যান্ডের আগুন মাটির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের আশা, সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে ধোঁয়াশার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।সূত্র: আলজাজিরা

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বিষাক্ত মালয়েশিয়া, বিপজ্জনক বায়ুদূষণ