ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরের ইউপি সদস্য কালুর যাবজ্জীবন

ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরের ইউপি সদস্য কালুর যাবজ্জীবন
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আদালত চত্বরে জ্ঞান হারালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধিত ৯(১) ধারায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে আদালত জানান, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের দাবি অন্য যেকোনো দাবির তুলনায় অগ্রাধিকার পাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও রায়ের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ট্যাগ : ধর্ষণ মামলা মেহেরপুর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরের ইউপি সদস্য কালুর যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন পিরোজপুর এলাকার মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। তিনি পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আদালত চত্বরে জ্ঞান হারালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধিত ৯(১) ধারায় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তাকে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায়ে আদালত জানান, অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকেও তা আদায় করা যাবে।

এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণের দাবি অন্য যেকোনো দাবির তুলনায় অগ্রাধিকার পাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পরে ওই অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, রায়ের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মেহেরপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা আলামত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছেও রায়ের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ