জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দলটির চার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, শ্রমিকশক্তি ও নারীশক্তির ব্যানারে কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। শহরের থানা মোড় ঘুরে মিছিলটি পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় রাজনৈতিক নেতার ওপর প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ হামলার মধ্য দিয়ে শুধু একজন ব্যক্তিকে আক্রমণ করা হয়নি, বরং ২৪ পরবর্তী দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক সহনশীলতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক সদস্য রাসেল পারভেজ, সাবেক যুগ্ম সমন্বয়ক মো. তাছের, যুবশক্তি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুরুজ হোসেন সম্রাট এবং ছাত্র শক্তির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মখলেচুর রহমান আয়াসসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ফলে সেদিনের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে ওই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এর আগের দিন রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্তব্যসমূহ