ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, চুক্তি সই

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, চুক্তি সই
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। নতুন এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর জেট বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে। যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার এ৩২১নিও পরিচালনা করা যাবে।

এয়ারবাসের এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমানে বিমানের জেট বহরের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। নতুন ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান।

এর আগে চলতি বছর দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ওই ১৪টির মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। দুই দফা মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে চুক্তি করা উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িংয়ের এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে বহরে আসতে পারে। সবগুলো উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে। চুক্তির সময় পুরো অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে প্রতিটি উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি মিলিয়ে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি বা প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি ন্যারো-বডি বা সরু কাঠামোর উড়োজাহাজ।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়ার কথা রয়েছে।

পুরোনো উড়োজাহাজ বাদ পড়ার আগে সক্ষমতার ঘাটতি সামাল দিতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

বর্তমান বহরের ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে চুক্তি করা ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরের আকার ৫০ ছাড়াতে পারে। তবে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ট্যাগ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এয়ারবাস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান, চুক্তি সই

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বহর সম্প্রসারণে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে চারটি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও। নতুন এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভর জেট বহরে এয়ারবাস যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়।

নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, চারটি এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ছয়টি এ৩২১নিও ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের রুটে। যেসব রুটে বড় উড়োজাহাজের প্রয়োজন নেই, সেখানে তুলনামূলক কম ধারণক্ষমতার এ৩২১নিও পরিচালনা করা যাবে।

এয়ারবাসের এসব উড়োজাহাজ সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরু হতে পারে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত সেগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার মোট বাণিজ্যিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বর্তমানে বিমানের জেট বহরের বড় অংশই বোয়িংয়ের তৈরি। নতুন ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে প্রথমবারের মতো বোয়িং ও এয়ারবাস দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে বহর পরিচালনা করবে বিমান।

এর আগে চলতি বছর দুই দফায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ওই ১৪টির মধ্যে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। দুই দফা মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে চুক্তি করা উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বোয়িংয়ের এসব উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে বহরে আসতে পারে। সবগুলো উড়োজাহাজ পেতে ১১ থেকে ১২ বছর সময় লাগতে পারে। চুক্তির সময় পুরো অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে প্রতিটি উড়োজাহাজ সরবরাহের সময় তার মূল্য পরিশোধ করা হবে। তবে অন্তত একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ বা ২০২৮ সালে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।

এয়ারবাসের ১০টি এবং বোয়িংয়ের ২৫টি মিলিয়ে নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫। এর মধ্যে ১৯টি ওয়াইড-বডি বা প্রশস্ত কাঠামোর এবং ১৬টি ন্যারো-বডি বা সরু কাঠামোর উড়োজাহাজ।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িং এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮। তবে দুটি উড়োজাহাজ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বহর থেকে বাদ পড়ার কথা রয়েছে।

পুরোনো উড়োজাহাজ বাদ পড়ার আগে সক্ষমতার ঘাটতি সামাল দিতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছে বিমান। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে পারেনি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।

বর্তমান বহরের ১৯টি উড়োজাহাজের সঙ্গে চুক্তি করা ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বিমানের বহরের আকার ৫০ ছাড়াতে পারে। তবে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের আগ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে লিজ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ