বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস কেনার চুক্তিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাসকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে।
তার মতে, এ চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরির পথে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। আস্থা, সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে এই অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাইকেল মিলার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হওয়ার বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে এভিয়েশন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অনুসন্ধানমূলক আলোচনা শুরুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ