ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যা, দুই যুবক আটক

রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যা, দুই যুবক আটক
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩)।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তীর নজরে এলে প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হচ্ছে।

এরপর শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘটনাস্থলে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম আটক দুজনকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না কিংবা হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি খাটের নিচ থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরিবারের কাউকে আর দেখা যায়নি। শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে স্বজন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছিল। শনিবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সবার ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা আলামত সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে।

গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। পরবর্তী সময়ে রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।

তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ট্যাগ : হত্যাকাণ্ড রংপুর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যা, দুই যুবক আটক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩)।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। বিষয়টি গণপতি চক্রবর্তীর নজরে এলে প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হচ্ছে।

এরপর শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ঘটনাস্থলে এলে তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম আটক দুজনকে চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না কিংবা হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি খাটের নিচ থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরিবারের কাউকে আর দেখা যায়নি। শনিবার রাতে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে স্বজন ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার শেষবার কথা হয়েছিল। শনিবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সবার ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা আলামত সংগ্রহ করে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে।

গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। পরবর্তী সময়ে রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন।

তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনা শেষ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ