জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর নেতিবাচক প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ডিসিসিআই।
আমির খসরু বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়েছে। এর প্রভাব ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ওপরও পড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল, গ্রেস পিরিয়ডসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে একটি প্যাকেজ করেছে।
তিনি জানান, ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতে চান এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও নীতিগতভাবে সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। কোনো ব্যবসায়ী যোগ্যতা পূরণ করার পরও ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সুবিধা না পেলে বিষয়টি সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ব্যাংকিং খাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ কাগজে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও বাস্তবে তা আদায়ের সম্ভাবনা না থাকলে সেটি ধরে রাখার যৌক্তিকতা নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট স্বচ্ছ করে প্রকৃত তারল্য নিশ্চিত করতে হবে।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল বলে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আমির খসরু বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে মজুত পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা প্রায় এক মাসের মজুতে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটাতে সময় লাগবে। সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবহার করছে। তবে সবকিছু সরকারের একক নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকেও বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি আর্থিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বাজারের নিয়মে আর্থিক খাত পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
মন্তব্যসমূহ