ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মিশরের উপকূলে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, পরিচয় মিলেছে ২৭ জনের

মিশরের উপকূলে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, পরিচয় মিলেছে ২৭ জনের
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন। অপর দুই বাংলাদেশি এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, গত ৩ আগস্ট মানবপাচারকারীদের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে সেটি দিক হারিয়ে প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকে।

পরে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ জন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৯ জন, হবিগঞ্জের তিনজন এবং সিলেট জেলার তিনজন রয়েছেন। সিলেট বিভাগের বাইরে মাদারীপুরের একজন এবং কিশোরগঞ্জের দুজন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ জনের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান নামে এক বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া একই উপকূল থেকে গত ১৬ আগস্ট আরও এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাগরে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন এমন বাংলাদেশিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের কাজও চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাৎকারের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।

নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

মিশরের আইন অনুযায়ী আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মর্গে থাকা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

ট্যাগ : মানবপাচার মিশর গ্রিস

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


মিশরের উপকূলে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, পরিচয় মিলেছে ২৭ জনের

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে আছেন। অপর দুই বাংলাদেশি এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, গত ৩ আগস্ট মানবপাচারকারীদের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী। ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে সেটি দিক হারিয়ে প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকে।

পরে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ জন সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৯ জন, হবিগঞ্জের তিনজন এবং সিলেট জেলার তিনজন রয়েছেন। সিলেট বিভাগের বাইরে মাদারীপুরের একজন এবং কিশোরগঞ্জের দুজন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ জনের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান নামে এক বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া একই উপকূল থেকে গত ১৬ আগস্ট আরও এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহ দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাগরে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন এমন বাংলাদেশিদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের কাজও চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাৎকারের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।

নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

মিশরের আইন অনুযায়ী আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মর্গে থাকা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ