মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মানবপাচারকারী ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া ঠেকানো এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।সম্প্রতি সুনামগঞ্জ থেকে লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবৈধভাবে বিদেশ যেতে যারা উৎসাহিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান আরিফুল হক চৌধুরী।[BANGVIEWS-POST:4479]তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় জড়িত দালালচক্র ও মানবপাচারকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সিলেট বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি বিশেষভাবে সুনামগঞ্জের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়লে দালালদের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সুনামগঞ্জে দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাও দেন মন্ত্রী।[BANGVIEWS-POST:4478]সভায় সমুদ্রপথে অনিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে অনিয়মিতভাবে ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৩ সালে ইতালিতে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রায় ৩১ শতাংশ ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক।উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২০২১ সালে প্রায় ১৫ হাজার ১৮৮ জন, ২০২২ সালে ১২ হাজার ৭৭৫ জন, ২০২৩ সালে প্রায় ১৫ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২০ হাজার ছিল।সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ প্রথমে লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করেন। দেশে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বেশি এমন জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরার নামও উল্লেখ করা হয়।সভায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সিলেট বিভাগের প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।