ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট

এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে টার্মিনালটির সরবরাহ বন্ধ হয়। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টানা ২৫ দিনের গ্যাস সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনালে নতুন কার্গো না পৌঁছানোয় গত তিন দিন ধরে সেখান থেকে সরবরাহ ক্রমেই কমছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনার জন্য কয়েকটি কার্গারের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে এসবের মধ্যে চারটি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও পৌঁছায়নি।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শনিবার এটি পুনরায় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য ২৩ বা ২৪ আগস্ট কার্গো আসতে পারে। ফলে ওই সময় পর্যন্ত টার্মিনালটি বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। মোট সরবরাহের মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সময়ে দুটি টার্মিনালের সরবরাহে ওঠানামার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণও কমেছে। গত শনিবার মোট গ্যাস সরবরাহ ২৪২ কোটি ঘনফুটে উঠলেও রোববার তা ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর বুধবার মোট সরবরাহ আরও কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার এলএনজি থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বুধবার তা কমে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ট্যাগ : এলএনজি গ্যাস সংকট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যেই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে টার্মিনালটির সরবরাহ বন্ধ হয়। নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টানা ২৫ দিনের গ্যাস সংকটের পর গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনালে নতুন কার্গো না পৌঁছানোয় গত তিন দিন ধরে সেখান থেকে সরবরাহ ক্রমেই কমছিল। শেষ পর্যন্ত বুধবার তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনালে এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনার জন্য কয়েকটি কার্গারের ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে এসবের মধ্যে চারটি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও পৌঁছায়নি।

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শনিবার এটি পুনরায় সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি এলএনজি কার্গো দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে এক্সিলারেটের জন্য ২৩ বা ২৪ আগস্ট কার্গো আসতে পারে। ফলে ওই সময় পর্যন্ত টার্মিনালটি বন্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। মোট সরবরাহের মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট।

সাম্প্রতিক সময়ে দুটি টার্মিনালের সরবরাহে ওঠানামার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণও কমেছে। গত শনিবার মোট গ্যাস সরবরাহ ২৪২ কোটি ঘনফুটে উঠলেও রোববার তা ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর বুধবার মোট সরবরাহ আরও কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার এলএনজি থেকে প্রায় ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বুধবার তা কমে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। এতে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাস সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ