আগামী অক্টোবরের মধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নতুন নির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা চালু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, শিশু স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক শিশু চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে শুধু আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়। সময়মতো ও কার্যকর টিকাদানের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগের বিস্তার এবং মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমে কিছু ঘাটতির কারণে জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বর্তমানে দেখা যাচ্ছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, টিকাদানের কার্যক্রম জোরদার করা হলেও হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমানোর চেষ্টা চলছে।
শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু স্বাস্থ্য, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরে উন্নত বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোগীদের রাজধানীতে আসতে হয়। এই চাপ কমাতে বিভাগীয় শহরগুলোতে ঢাকার সমমানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গবেষক, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ