প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ও মতামত যথাযথভাবে তুলে ধরতে দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন এবং কাঠামোগত রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের ‘মুনসুন রিভল্যুশন অডিটোরিয়াম’-এ আয়োজিত ‘গণমাধ্যম, গণআকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্মার্ট ডিভাইসের বিস্তার মানুষের যোগাযোগ এবং তথ্য গ্রহণের ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে গত দুই থেকে আড়াই দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ সমাজে ব্যাপক রূপান্তর ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, একসময় সরকার নিয়ন্ত্রিত বা নিবন্ধিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যকেই মূলত জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে এখন সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সরাসরি নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশা প্রকাশ করতে পারছেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মতো প্রতিষ্ঠানের মূল কাঠামো তৈরি হয়েছিল ইন্টারনেট ও স্মার্ট ডিভাইসের ব্যাপক ব্যবহারের আগের সময়ে। বর্তমান বাস্তবতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে দর্শক-শ্রোতার পরিবর্তিত চাহিদা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ক্লাউড প্রযুক্তিসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তথ্যমন্ত্রী। তার মতে, গণমাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, উপযুক্ত প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলের সমন্বিত ব্যবহার প্রয়োজন।
সেমিনারে উঠে আসা আলোচনা ও প্রস্তাবগুলো সরকারের নীতি নির্ধারণ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ড. সায়মা ফেরদৌস এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
সেমিনারে গণমাধ্যম গবেষক, শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মন্তব্যসমূহ