ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐকমত্য

৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐকমত্য
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

তেহরানের পক্ষ থেকে পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলার হুমকির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রথম দফার ঐতিহাসিক বৈঠক শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ এই আলোচনায় উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বার্গেনস্টকে চলতি সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে লেবাননে চলমান যুদ্ধ অবসানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার আলোচনা শুরু করেন, যা সোমবারের প্রথম প্রহর পর্যন্ত গড়ায়। তবে রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ও ইরানি সূত্রের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্নতা।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের দাবি, আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকি প্রকাশ্যে এলে ইরানি প্রতিনিধি দল মূল বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করে। পরে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারমাণবিক ইস্যুতে মূল আলোচনা শুরুর আগে সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠক ত্যাগ করেননি। বরং গভীর রাত পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী, লেবানন যুদ্ধ এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হলেও বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা চূড়ান্ত করতে কারিগরি দল সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করবে।

গত শুক্রবার লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর প্রতিবাদে ইরান শনিবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রায় চার মাস ধরে এই প্রণালীর অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

যদিও মার্কিন প্রশাসন প্রণালী বন্ধের দাবি অস্বীকার করেছে, শিপিং ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২৬টি।

এদিকে, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৮১ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।

তবে কয়েকদিনের তুলনায় রোববার লেবাননে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির পর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন মহাসড়কে বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে। তাদের অনেকের হাতেই ছিল হিজবুল্লাহর পতাকা।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্য ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ঐকমত্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

তেহরানের পক্ষ থেকে পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলার হুমকির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রথম দফার ঐতিহাসিক বৈঠক শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান জানিয়েছে, উত্তেজনাপূর্ণ এই আলোচনায় উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বার্গেনস্টকে চলতি সপ্তাহজুড়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে লেবাননে চলমান যুদ্ধ অবসানের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও দুই পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

গত এপ্রিলে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার আলোচনা শুরু করেন, যা সোমবারের প্রথম প্রহর পর্যন্ত গড়ায়। তবে রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন ও ইরানি সূত্রের বক্তব্যে দেখা গেছে ভিন্নতা।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের দাবি, আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকি প্রকাশ্যে এলে ইরানি প্রতিনিধি দল মূল বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করে। পরে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রাখা হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারমাণবিক ইস্যুতে মূল আলোচনা শুরুর আগে সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠক ত্যাগ করেননি। বরং গভীর রাত পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী, লেবানন যুদ্ধ এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হলেও বিভিন্ন বিষয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা চূড়ান্ত করতে কারিগরি দল সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করবে।

গত শুক্রবার লেবাননে নতুন করে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এর প্রতিবাদে ইরান শনিবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রায় চার মাস ধরে এই প্রণালীর অচলাবস্থা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

যদিও মার্কিন প্রশাসন প্রণালী বন্ধের দাবি অস্বীকার করেছে, শিপিং ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যমতে, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র পাঁচটি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ২৬টি।

এদিকে, শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৮১ দশমিক ৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।

তবে কয়েকদিনের তুলনায় রোববার লেবাননে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির পর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন মহাসড়কে বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফিরতে দেখা গেছে। তাদের অনেকের হাতেই ছিল হিজবুল্লাহর পতাকা।

সূত্র: আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ