লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরাগচি বলেন, পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতার ফলে লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
তার দাবি, এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে, জব্দ করা কিছু সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের জন্য বৃহৎ পরিসরের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক অবস্থানও তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্জিত অগ্রগতির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে ‘লেবানন ডি-কনফ্লিকশন সেল’।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেবানন সরকারের চলমান প্রত্যক্ষ আলোচনার কঠোর বিরোধিতা করেছে দেশটির সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, এ ধরনের আলোচনা লেবাননের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করবে এবং পরোক্ষভাবে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে অবস্থানরত লেবাননের প্রতিনিধি দলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কিছু শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এসব শর্ত লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে ‘বাজেয়াপ্ত’ করবে এবং বৈরুতকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাবে, যা ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতাকারীদের নীতির অনুকূলে যায়।
হিজবুল্লাহর ভাষ্য, আলোচনার ভিত্তিটিই ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি লেবাননের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে দেশটিকে এক ধরনের ‘আত্মসমর্পণের’ দিকে ঠেলে দেবে। তাদের মতে, সরকারের এই অংশগ্রহণ শত্রুর আগ্রাসী পরিকল্পনা মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে এটি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রচেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগকে অবমূল্যায়ন করবে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।