ঢাকা    সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের

হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
ফাইল ছবি
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে গাজায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে। এরপর একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সহায়তায় নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী কাজ করবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক দায়িত্ব নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তবে হামাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। যদিও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্মতিসূচক একটি নথি তাদের হাতে এসেছে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। তিনি আরও জানান, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া। তাঁর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না; একটি জাতীয় কমিটিই এটি পরিচালনা করবে।

ট্রাম্পের দাবি, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।

বর্তমানে হামাসের প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। হামাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

আল জাজিরার হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত এবং নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের সময়সূচি ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতি সাপেক্ষে এ সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী বাহিনী কাজ করবে। সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের নাম আলোচনায় এলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা ইসরায়েল হামাস

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মাধ্যমে গাজায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ধাপে ধাপে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে। এরপর একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সহায়তায় নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী কাজ করবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক দায়িত্ব নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তবে হামাস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। যদিও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্মতিসূচক একটি নথি তাদের হাতে এসেছে।

হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, গাজা শান্তি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। তিনি আরও জানান, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া। তাঁর দাবি, এ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের কোনো ভূমিকা থাকবে না; একটি জাতীয় কমিটিই এটি পরিচালনা করবে।

ট্রাম্পের দাবি, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা গত অক্টোবরে তাঁর মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এবং একটি স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হবে।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিকবার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।

বর্তমানে হামাসের প্রতিনিধিরা মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থান করছেন। সেখানে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। হামাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

আল জাজিরার হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত এবং নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের সময়সূচি ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করার প্রস্তাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাচাই কমিশনের সম্মতি সাপেক্ষে এ সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমন্বয়কারী বাহিনী কাজ করবে। সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের নাম আলোচনায় এলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ