জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চত্বরে এ সংঘর্ষ ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল চালু হওয়ার পর ওই এলাকার বেশ কয়েকটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময় দোকান বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল।
পরে ২০২৪ সালে ওই এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল চালু হয়। নতুন হলটির সামনে আগে থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আওতায় থাকা কয়েকটি দোকান ছিল। এর মধ্যে চারটি দোকানের মালিকানা নিয়ে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি তোলে।
এই দাবি ঘিরে কয়েক দিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার রাতে নজরুল হলের কিছু শিক্ষার্থী হলের সামনে থাকা চারটি দোকানে তালা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ খবর জানার পর সোমবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্র চত্বরে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে নজরুল হলের একদল শিক্ষার্থী সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, আহত শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে এবং পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত নয়জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাকি আহত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।