সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে নতুন বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য, পানি, ওষুধ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার ইকাতেরিনবার্গে আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় তরুণদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন পুতিন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, একজন মানুষের ভবিষ্যৎ তার জাতীয়তা, অর্থসম্পদ, সামাজিক অবস্থান কিংবা পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য মৌলিক প্রয়োজন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
পুতিন বলেন, প্রতিটি জাতির নিজেদের উন্নয়নের পথ স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। কোনো দেশ বা শক্তির উচিত নয় অন্য কোনো জাতির ওপর নির্দিষ্ট উন্নয়ন মডেল চাপিয়ে দেওয়া।
আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবন মানুষের জীবনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতের বিশ্ব কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্তে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বড় ভূমিকা থাকবে।
পুতিনের মতে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি শুধু কয়েকটি ধনী দেশ বা বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এগুলো পুরো মানবজাতির উন্নয়নে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
তরুণদের পারস্পরিক সম্পর্কেও বন্ধুত্ব, ন্যায়বিচার ও সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি রুশ শব্দ ‘মির’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, শব্দটি শান্তি ও সম্প্রীতির পাশাপাশি বিশ্বকেও বোঝায়।
তার মতে, বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মানের ধারণা এই শব্দটির মধ্যেই প্রতিফলিত হয়।
বিশ্বের তরুণদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পুতিন বলেন, ভবিষ্যতের বিশ্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণদের স্বপ্ন, চিন্তা ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। যারা রাশিয়ার বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের জন্যও সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।
ইকাতেরিনবার্গকে ইউরোপ ও এশিয়ার মিলনস্থল হিসেবে উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, শিল্প, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে ইউরাল অঞ্চলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বক্তব্যের শেষে তরুণদের ওপর আস্থা প্রকাশ করে নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।
আন্তর্জাতিক যুব উৎসব-২০২৬-এ প্রায় ১০ হাজার তরুণ অংশ নিচ্ছেন। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০টির বেশি দেশ থেকে তরুণ প্রতিনিধিরা এতে যোগ দিয়েছেন। উৎসবটি ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইকাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।