ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার

তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফরের সময় নির্ধারণ করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে ভারত সরকার তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে অত্যন্ত আন্তরিক ও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের লক্ষ্য ও স্বার্থের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সীমান্ত এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গভীর।

দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত, যার প্রধান ভিত্তি হবে উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ।

ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। হাইকমিশনার বলেন, ভিসা সুবিধা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ভারত কাজ করছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগ করে না, তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও গভীর সংযোগ রয়েছে।

তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বুধবারের বৈঠকটি মূলত সৌজন্যমূলক ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তার মতে, পানি বণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় সব আলোচনার কেন্দ্রে দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণকে রাখতে হবে। উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য উপকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হাইকমিশনার জানান, পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরে এসব বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বেশ কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। জ্বালানি, ভ্রমণ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।

ট্যাগ : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফরের সময় নির্ধারণ করা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে ভারত সরকার তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগিরই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে অত্যন্ত আন্তরিক ও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের লক্ষ্য ও স্বার্থের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সীমান্ত এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গভীর।

দীনেশ ত্রিবেদী জানান, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় ভারত, যার প্রধান ভিত্তি হবে উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ।

ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। হাইকমিশনার বলেন, ভিসা সুবিধা চালু হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ভারত কাজ করছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ শুধু সীমান্তই ভাগ করে না, তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও গভীর সংযোগ রয়েছে।

তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বুধবারের বৈঠকটি মূলত সৌজন্যমূলক ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তার মতে, পানি বণ্টনসহ দ্বিপক্ষীয় সব আলোচনার কেন্দ্রে দুই দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণকে রাখতে হবে। উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য উপকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হাইকমিশনার জানান, পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের সফরে এসব বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বেশ কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। জ্বালানি, ভ্রমণ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ