ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হতাহতের হিসাব হালনাগাদ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। নতুন তথ্য যুক্ত করার পর নিহত ও আহত সেনার সম্মিলিত সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। খবর সিএনএনের।
পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের (ডিসিএএস) পৃথক দুটি বিভাগের তথ্য একত্র করলে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ১৮ মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬২৪ জন আহত হয়েছেন। সে হিসাবে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৪২।
তবে পেন্টাগন এখনো নিশ্চিত করেনি, নতুন ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগে তালিকাভুক্ত আহত সেনাদের সবাই ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না। ফলে ৬২৪ জন আহত হওয়ার সংখ্যাটি ডিসিএএসের পৃথক বিভাগের সম্মিলিত হিসাব।
এর আগে পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে ৪৮২ জন আহত হওয়ার তথ্য দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নিহত চার সেনা এবং কয়েক ডজন আহতের তথ্য ওই বিভাগ থেকে সরিয়ে নেওয়ায় হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বিভাগে বর্তমানে ১৪ জন নিহত ও ৪১৭ জন আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। নতুন ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগে আরও চারজন নিহত ও ২০৭ জন আহতের তথ্য রয়েছে।
নতুন বিভাগে জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনা এবং উত্তর ইরাকে ড্রোন বিস্ফোরণে নিহত আরেক সেনার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই বিভাগের সময়সীমা ও আওতাভুক্ত অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি পেন্টাগন।
হিসাবে অসংগতি দেখা দেওয়ার পর সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেন। তারা যুদ্ধে নিহত ও আহত সব সেনার সঠিক হিসাব প্রকাশের আহ্বান জানান।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ দাবি করেন, ডিসিএএস ওয়েবসাইটে সাময়িক তথ্যগত বা কারিগরি সমস্যার কারণে হতাহতের সংখ্যায় অসংগতি দেখা দিয়েছিল।
ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুদ্ধবিরতির কারণে যুদ্ধক্ষমতা আইনের ৬০ দিনের সময়সীমা থেমে গিয়েছিল। পরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেটিকে পৃথক পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এ ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে ভিত্তি করে বারবার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: সিএনএন